ব্যাংকার স্বামীর দেওয়া স্বর্ণের গহনা ব্যবহার কি জায়েয?

জিজ্ঞাসা–১৮৯৪ : আগের স্বামীর দেয়া স্বর্ণের সাথে বাবা-মা নতুন সোনা মিলিয়ে গহনা বানিয়ে দিলে সেই গহনা ব্যবহার করা জায়েয হবে? উল্লেখ্য,  স্বামী ব্যাংকার ছিলেন। —তাবাসসুম।

জবাব : যদি আগের স্বামীর উপার্জন হারাম মিশ্রিতও হয়ে থাকে, তবুও স্ত্রীকে উপহার, মোহরানা বা ভরণপোষণ হিসেবে যা প্রদান করা হয়েছে, তা স্ত্রীর মালিকানায় বৈধভাবে চলে আসে। তাই সেই স্বর্ণের সাথে বাবা-মার দেওয়া নতুন স্বর্ণ মিলিয়ে গহনা তৈরি করে ব্যবহার করা জায়েয হবে ইনশাআল্লাহ। শুধু ‘ব্যাংকার ছিলেন’ — এ কারণেই সম্পদ হারাম হয়ে যায় না।

ফুকাহায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন, কোনো ব্যক্তি হারাম উপার্জনের অর্থ দ্বারা কাউকে কিছু দিলে, গ্রহণকারীর জন্য তা বৈধ হয়ে যায়, যদি তা চুরি বা ছিনতাই করা নির্দিষ্ট সম্পদ না হয়।

ইবনে মাসঊদ রাযি. বলেন, তার নিকটে জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, আমার একজন প্রতিবেশী আছে যে সুদ খায় এবং সর্বদা আমাকে তার বাড়িতে খাওয়ার জন্য দাওয়াত দেয়। এক্ষণে আমি তার দাওয়াত কবুল করব কি? জওয়াবে তিনি বললেন, مَهْنَأَهُ لَكَ وَإِثْمُهُ عَلَيْهِ ‘তোমার জন্য এটি বিনা কষ্টের অর্জন এবং এর গোনাহ তার উপরে’। [মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক  : ১৪৬৭৫]

তবে জায়েয হলেও তবে কেউ যদি তাকওয়া ও সতর্কতার কারণে তা এড়িয়ে চলতে চান, সেটি ভিন্ন বিষয়। প্রখ্যাত সাহাবী আবুদ্দারদা রাযি. বলেন,

تَمَامُ التَّقْوَى أَنْ يَتَّقِيَ اللهَ الْعَبْدُ حَتَّى يَتَّقِيَهُ مِنْ مِثْقَالِ ذَرَّةٍ، وَحَتَّى يَتْرُكَ بَعْضَ مَا يَرَى أَنَّهُ حَلَالٌ خَشْيَةَ أَنْ يَكُونَ حَرَامًا حِجَابًا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْحَرَامِ

পরিপূর্ণ তাকওয়া হচ্ছে, বান্দা আল্লাহকে এমনভাবে ভয় করবে যে, সে বিন্দু পরিমাণ গুনাহ থেকেও নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে। এমনকি সে হারামে লিপ্ত হওয়ার ভয়ে এমন কিছু বিষয়ও ত্যাগ করবে, যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে হালাল। যাতে করে তার মাঝে এবং হারামের মাঝে প্রতিবন্ধক তৈরি হয়ে যায়। [জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম, ইবনু রজব হাম্বলী  : ১/২১৭]

والله أعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন