জিজ্ঞাসা–১৯১৭ : রমজান মাসে স্ত্রীর ঠোঁটে কিস করা যাবে কি? ঠোঁটে কিস করলে স্ত্রীর মুখের লালা আমার মুখে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, এখন আমি কী করবো?–মোঃ কামরুল ইসলাম।
জবাব : রমজান মাসে স্ত্রীর ঠোঁটে কিস করা বা ভালোবাসাসূচক চুম্বন মূলত জায়েজ, যদি এর মাধ্যমে সহবাস বা বীর্যপাতের মতো রোজা ভঙ্গকারী বিষয়ের আশঙ্কা না থাকে। রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে রোজা অবস্থায় উম্মুল মুমিনীনদের চুম্বন করতেন—এ মর্মে সহীহ ও স্পষ্ট হাদিস রয়েছে।
আয়েশা রাযি. বলেন,
كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُقَبِّلُ وَيُبَاشِرُ وَهُوَ صَائِمٌ، وَكَانَ أَمْلَكَكُمْ لِإِرْبِهِ
রাসূল ﷺ রোজা অবস্থায় চুম্বন ও স্ত্রীকে স্পর্শ করতেন; তবে তিনি তোমাদের সবার চেয়ে নিজের কামনা নিয়ন্ত্রণে অধিক সক্ষম ছিলেন। [সহিহ বুখারী : ১৯২৭]
তবে স্বাভাবিক গালে বা কপালে চুম্বনের চেয়ে রমজান মাসে স্ত্রীর ঠোঁটে কিস করার বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন ও সংবেদনশীল। যদি ঠোঁটে গভীর কিস বা চুম্বনের ফলে স্ত্রীর লালা নিজের মুখে চলে আসে এবং তা ইচ্ছাকৃতভাবে গিলে ফেলা হয়, তবে রোজা ভেঙে যাবে। বাইরের কোনো বস্তু বা অন্যের লালা ইচ্ছাকৃতভাবে গিলে ফেললে রোজা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ফকিহগণ একমত। তাই, রোজা থাকা অবস্থায় গভীর চুম্বন থেকে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।
এমতাবস্থায় করণীয় হলো–
১. ভালোবাসাসূচক কিস করলেও স্ত্রীর লালা যেন মুখে না আসে এবং তা যেন গিলে ফেলা না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা।
২. দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলা, যদি এতে উত্তেজনা বেড়ে গিয়ে রোজা ভঙ্গের (সহবাস বা বীর্যপাত) আশঙ্কা থাকে।
৩. নিজের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা সম্পর্কে সামান্যতম সন্দেহ থাকলে দিনের বেলায় এ ধরনের কাজ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা।