হিন্দু বাড়িতে খানা খাওয়া এবং নামাজ আদায় করা যাবে কিনা?

জিজ্ঞাসা–৯৮:আমার একজন কর্মচারী হিন্দু সে তার বাসায় অনেকদিন থেকে আমাকে দাওয়াত খেতে বলছে কিন্তু আমি বিভিন্ন ভাবে তাকে অজুহাত দিয়ে দাওয়াত গ্রহন করছি না এমতাবস্থায় সে খুব মন খারাপ করেছে। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে, হিন্দুর বাসায় কি আমার দাওয়াত খাওয়া ঠিক হবে? আর একটি প্রশ্ন আমার পরিবারের মহিলারা তার বাড়িতে বেড়াতে গেলে সেখানে নামাজের ওয়াক্ত হলে নামায আদায় করতে পারবে কিনা? দয়া করে মাসআলাটা জানালে উপকৃত হব। জাযাকআল্লাহ।-মো মাসরুর সাইফ

জবাব : হিন্দু বা বিধর্মীদের তৈরি হালাল খাবার মুসলমানের জন্য খাওয়া জায়েয। আর প্রয়োজনে তাদের বাড়িতেও খানা খাওয়া জায়েয। তাই  প্রয়োজনে হিন্দু বাড়িতে খানা খেতে পারবেন। তবে তাদের যবাইকৃত প্রাণীর গোশত খাওয়া হারাম। কেননা,সূরা আনআ’মের ১১৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বিধান দিয়েছেন,

فَكُلُواْ مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللّهِ عَلَيْهِ إِن كُنتُمْ بِآيَاتِهِ مُؤْمِنِينَ

অতঃপর যে জন্তুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয়, তা থেকে ভক্ষণ কর যদি তোমরা তাঁর বিধানসমূহে বিশ্বাসী হও।” সুতরাং তাদের বাড়িতে মুরগী ইত্যাদির গোশত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। (আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৬৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/১৬৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৪৭; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ৭৪)

আর স্থান পবিত্র হলে এবং সামনে মূর্তি ইত্যাদি না থাকলে নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায়। সুতরাং আপনার পরিবার ওই বাড়িতে এমন স্থান দেখে সেখানে নামাজ আদায় করবে।

والله اعلم بالصواب

ন্তব্য

    • জবাব: জামাতে নামাযে পড়ার সময় ইমাম যা বলবেন ও করবেন মুসল্লিগণ তা-ই করবেন ও বলবেন। তবে ইমাম যখন কিরাত পাঠ করবেন, তখন মুসল্লিগণ চুপ থাকবেন। এমনটিই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন, আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

      إنَّما جُعِلَ الإمامُ ليؤتمَّ به، فإذا كبَّر فكبِّروا، وإذا قرأَ فأَنصِتوا، وإذا قال: غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ، فقولوا: آمِينَ، وإذا ركَع فارْكعوا، وإذا قال: سمِعَ اللهُ لِمَن حمِدَه، فقولوا: اللهمَّ ربَّنا ولك الحمد، وإذا سجَد فاسجدُوا

      ‘জামাতের নামাযে ইমাম হল অনুসরণের জন্য। অতএব, ইমাম যখন আল্লাহু আকবর বলবে, তোমরাও আল্লাহু আকবর বলবে। আর ইমাম যখন কিরাআত পড়বে তখন তোমরা চুপ থাকবে। যখন ইমাম বলবে غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ তখন তোমরা ‘আমীন’ বলবে। যখন তিনি রুকু করবেন তখন তোমরাও রুকু করবে। যখন তিনি سمِعَ اللهُ لِمَن حمِدَه বলবে তখন তোমরা اللهمَّ ربَّنا ولك الحمد বলবে। যখন তিনি সিজদা দিবেন তখন তোমরাও সিজদা দিবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ ১/৬১)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − 10 =