ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কোরআন খতম করে বিনিময় গ্রহণ করা যাবে কি?

জিজ্ঞাসা–১৪১৯: আসসালামু আলাইকুম। হযরত, বর্তমানে প্রচলিত একটি সমস্যা, পবিত্র কোরআন শরীফের খতমের মাধ্যমে মৃতদের ঈসালে সওয়াব উপলক্ষে ও বিভিন্ন সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য মানুষজন হাফেজ কোরআন বা আলেমদেরকে দিয়ে দোয়া বা কোরআনে কারীমের খতম করে যে পারিশ্রমিক বা হাদিয়া দেয় তা কতটা ইসলাম সম্মত? জানালে উপকৃত হবো।–মোস্তাক আহমেদ।

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

বর্তমান সমাজের প্রচলিত ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে দোয়া-দরূদ ও কোরআন খতম করিয়ে বিনিময়ে টাকা-পয়সা আদান-প্রদানের যে প্রথা চালু আছে তা নাজায়েজ ও কু-প্রথার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এ থেকে বিরত থাকা জরুরি।

এর দলিল হল,

১. আল্লাহ তাআ’লা বলেন,

وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا وَإِيَّايَ فَاتَّقُونِ

আর আমার আয়াতের অল্প মূল্য দিও না। এবং আমার (আযাব) থেকে বাঁচ। (সুরা বাকারা ৪১)

২. সুলাইমান ইবন বুরাইদা তাঁর পিতা থেকে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ يَتَأَكَّلُ بِهِ النَّاسَ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَوَجْهُهُ عَظْمٌ ، لَيْسَ عَلَيْهِ لَحْمٌ

যে ব্যক্তি কোরআন তেলাওয়াত করে বিনিময়ে মানুষ থেকে ভক্ষণ করল, সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উঠবে যে, তার চেহারায় হাড্ডি থাকবে, কোনো প্রকার গোশত থাকবে না। (বাইহাকি, শু’আবুল ঈমান ৪/১৯৬)

৩. ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি,

مَنْ قَرَأَ القُرْآنَ فَلْيَسْأَلِ اللَّهَ بِهِ، فَإِنَّهُ سَيَجِيءُ أَقْوَامٌ يَقْرَءُونَ القُرْآنَ يَسْأَلُونَ بِهِ النَّاسَ

তোমরা কোরআন পড়ো এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করো। তোমাদের পরে এমন জাতি আসবে, যারা কোরআন পড়ে মানুষের কাছে প্রার্থনা করবে। (মুসনাদে আহমদ ১৯৯১৭ তিরমিযি ২৯১৭)

৪. আবদুর রহমান ইবনে শিবল রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি,

اقْرَءُوا الْقُرْآنَ وَلَا تَغْلُوا فِيهِ وَلَا تَجْفُوا عَنْهُ وَلَا تَأْكُلُوا بِهِ وَلَا تَسْتَأْثِرُوا بِهِ

তোমরা কোরআন পড়ো। তবে তাতে বাড়াবাড়ি করো না। এর প্রতি বিরূপ হয়ো না। কোরআনের বিনিময় ভক্ষণ করো না এবং এর দ্বারা সম্পদ কামনা করো না। (মুসনাদে আহমদ ১৫৫২৯ মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৫/২৪০)

والله اعلم بالصواب