দু’দিন পর রক্ত দেখা না দিলে হায়েজের সর্বনিম্ন সময়-সীমা কতদিন হবে?

জিজ্ঞাসা–৪৯৪: আমার বয়স ২৩। এ বয়সে সবারই হায়েজ ৪-৬/৭ দিন বা এর বেশীও থাকে। আমার ২ দিন থাকে সর্বোচ্চ। ৩য় দিন প্রায় ফ্লো থাকে না বললেই চলে। আমার জানা মতে হায়েজের সর্বনিম্ন সীমা ৩ দিন। আমি ২দিন হায়েজ ধরে ৩য় দিন সেইফটি হিসেবে ধরি। তবে এগজাক্ট কখন হায়েজ শেষ হয় ধরতে পারি না।  আমি কি ৪র্থ দিন থেকেই ফরজ গোসল আদায় করে নামাজ শুরু করব? — Ahona Ahmed

জবাব: প্রিয় বোন, হায়েজের সর্বনিম্ন সময়-সীমা কতদিন? এ ব্যাপারেও ইমামগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা রহ. বলেছেন যে, হায়েজ বা ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন সময়-সীমা ০৩ দিন। ইমাম আবু ইউসুফ রহ. বলেন, কমপক্ষে আড়াই দিন। পক্ষান্তরে ইমাম শাফিঈ রহ. ও ইমাম আহমদ রহ. বলেন, কমপক্ষে এক দিন এক রাত। লক্ষণীয় বিষয় হল, দলিল-প্রমাণ প্রত্যকের কাছেই আছে।

বর্তমানের মানুষ আগেকার মানুষের মত শক্তিশালী নয়; অপরদিকে এখনকার নারীদের অনেকেই বলে থাকেন-যেমনটি আপনি বলেছেন যে, এক/দুই দিন রক্ত থাকে, এরপর আর থাকে না। পরবর্তী মাসগুলোতেও এরকমই হয়। ফকিহগণ বলেন, এ জাতীয় নারী ইমাম শাফিঈ রহ. ও ইমাম আহমদ রহ.এর মতের ওপর আমল করবে। সুতরাং এরা ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন সময়-সীমা ধরবে, এক দিন এক রাত। তবে শর্ত হল, ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিন দিনের মধ্যে রক্ত দেখা দিতে পারবে না। যদি তিন দিনের মধ্যে পুনরায় রক্ত দেখা দেয় তাহলে ইমাম আবু হানিফা রহ. মতানুযায়ী তার সর্বনিম্ন সময়-সীমা ধরা হবে তিন দিন। (ফাতাওয়া কাসিমিয়া ৫/২৩২, আল ফিকহ আলাল মাযাহিবিল আরবাআ’ ১/১২৮)

সুতরাং প্রশ্নের আলোকে আপনার প্রতি পরামর্শ হল, আপনি আমল করবেন, ইমাম শাফিঈ রহ. ও ইমাম আহমদ রহ.এর মতের ওপর। অর্থাৎ, দ্বিতীয় দিনের পর যদি রক্ত দেখা না দেয়, তাহলে তৃতীয় দিন থেকেই ফরজ গোসল আদায় করে নামাজ শুরু করবেন।

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী

ন্তব্য

  1. ফরজ গোসল শুরু করার আগে মাথা ভালোভাবে ধুয়ে ফেলার পর ফরজ গোসল শুরু করার পর মাথায় পুনরায় পানি দিতে ভুলে গেলে কি করণীয়? সেক্ষেত্রে গোসল হবে কি? নাকি পুনরায় আবার গোসল করতে হবে?

    • নতুন করে গোসল করতে হবে না; বরং মাথায় পানি দিয়ে নিলে হবে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি.-এর সূত্রে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে,

      أن رجلا جاء إلى النبي ﷺ فسأله عن الرجل يغتسل من الجنابة فيخطئ بعض جسده الماء فقال رسول الله ﷺ يغسل ذلك المكان ثم يصلي

      এক ব্যক্তি নবী কারীম ﷺ -এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করল যে, এক ব্যক্তি ফরয গোসল করেছে, কিন্তু তার কোনো একটি অঙ্গে পানি পৌঁছেনি। (এখন তার করণীয় কি?) রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সে ঐ অঙ্গটি ধুয়ে নিয়ে নাযায পড়বে। (আলমুজামুল কাবীর, তবারানী ১০/২৩১)

  2. আমার বয়সব 22 বছর ।কিন্তু আমার শারীরিক অবস্থা খুবই চিকন আর হেংলা ।আমার এই অবস্থা খুবই খারাপ লাগে যখন আমি অন্যদের সাথে মিশি ।তাই আমি খানিকটা মোটা চাই।কিন্তু যথেষ্ট খাবার খাওয়ার পরও অনেক মাস যাবত কোন পরিবর্তন হচ্ছে না ।কোরআন ও হাদিসের আলোকে এর কোন সমাধান আছে কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 + eight =