এক ব্যক্তি মেদভুঁড়ি বেড়ে যাওয়ার শরয়ি সমাধান জানতে চেয়েছেন…

জিজ্ঞাসা–৬২৭: আমার শরীরে মেদ অনেক বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত ওজনের কারণে চলা-ফেরা করতে আমার খুব কষ্ট হয়। এ নিয়ে খুব যন্ত্রনায় আছি। প্লিজ, আমাকে কিছু আমল বা দোয়া বলে দিন; যাতে এই কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে পারি।–মুনির হোসেন।

জবাব: আপনার মেদভুঁড়ি বাড়ার কারণ কী; তা কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিয়ে তার পরামর্শ মেনে চলতে পারেন।

আর আমাদের পরামর্শ হল,

১- মেদ-এর সমস্যা অতিরিক্ত খাওয়া এবং ইসলামী শিষ্টাচারগুলো মেনে না চলার কারণেও হতে পারে। ডাক্তাররাও বলে থাকেন, অতিরিক্ত ভোজন, অতিরিক্ত ওজন। এর সমাধান হচ্ছে- খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ্‌ বলা, খাওয়া শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলা এবং কম খাওয়া। মিকদাদ বিন মা’দিকারাব রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ‌ﷺ-কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন,

مَا مَلَأَ آدَمِيٌّ وِعَاءً شَرًّا مِنْ بَطْنٍ بِحَسْبِ ابْنِ آدَمَ أُكُلَاتٌ يُقِمْنَ صُلْبَهُ فَإِنْ كَانَ لَا مَحَالَةَ فَثُلُثٌ لِطَعَامِهِ وَثُلُثٌ لِشَرَابِهِ وَثُلُثٌ لِنَفَسِهِ

কোনো মানুষ পেটের চেয়ে মন্দভাবে কোন পাত্রকে ভরপুর করে না। বনী আদমের জন্য কয়েক লোকমা খাওয়াই যথেষ্ট; যতটুকু তার মেরুদণ্ডকে সোজা রাখবে। যদি এর চেয়ে বেশি খেতে হয় তাহলে (পেটের) এক তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক তৃতীয়াংশ নিঃশ্বাসের জন্য। (তিরমিযি ২৩৮০ ইবন মাজাহ ৩৩৪৯)

২- প্রতি চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ (হাদিসের পরিভাষায় যাকে ‘আইয়ামে বীয’ বলা হয়) অথবা প্রত্যেক সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতে পারেন। এতে নফল রোজার সাওয়াব পাবেন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ হবে। হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ‌ বলেছেন,

صِيَامُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ صِيَامُ الدَّهْرِ وَأَيَّامُ الْبِيضِ صَبِيحَةَ ثَلاثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ

প্ৰত্যেক মাসের তিন দিন রোজা পালন করা সারা জীবন রোজা পালন করার সমতুল্য। আর আইয়ামে বীয—তের তারিখের সকাল থেকে চৌদ্দ এবং পনের তারিখ পর্যন্ত । (নাসাঈ ২৪২২)

অপর হাদিসে তিনি বলেন,

تُعْرَضُ الأَعْمَالُ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ فَأُحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ

প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমল পেশ করা হয়। সুতরাং আমি ভালবাসি রোজা পালনকারী অবস্থায় আমার আমলসমূহ পেশ করা হয়। (তিরমিযি ৭৪৫)

৩- অনুরূপভাবে একজন মুসলিমের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের যা খুশি কল্যাণ চেয়ে ও অনিষ্ট দূর করার জন্য দোয়া করা শরিয়তসম্মত। সুতরাং আপনি আল্লাহ্‌র কাছে রোগ নিরাময়, সুস্থতা ও সৌন্দর্যের জন্য দোয়া করুন।

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ এই বলে দোয়া করতেন যে,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الصِّحَّةَ ، وَالْعِفَّةَ ، وَالأَمَانَةَ ، وَحُسْنَ الْخُلُقِ ، وَالرِّضَا بِالْقَدَرِ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সুস্থতা, পবিত্রতা, আমানতদারিতা, চরিত্রমাধুর্য এবং তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্টি কামনা করি। (কানযুল উম্মাল ২/৩৬৫০)

আনাস রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ এই বলে দোয়া করতেন যে,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْبَرَصِ وَالْجُنُونِ وَالْجُذَامِ وَمِنْ سَيِّئْ الْأَسْقَامِ 

হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাইছি আপনার কাছে শ্বেতকুষ্ঠ, উম্মাদ রোগ, কুষ্ঠ রোগ ও তামাম খারাপ ব্যধি থেকে। (আবূ দাঊদ ১৫৫৪)

সুতরাং এ দোয়াগুলো আপনিও পড়তে পারেন।

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী
আরো পড়ুন–

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 − two =