আত্মশুদ্ধির উপায় কী?

জিজ্ঞাসা১৬৪: হযরত! আসসালামু আ’লাইকুম। আমার প্রশ্ন হল, পূর্বের গুনাহ গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে আত্মশুদ্ধির উপায় কী? মেহেরবানি করে দলিলসহ দিলে উপকৃত হব, ইনশা-আল্লাহ। আল্লাহ আপনাকে দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ দান করুন। আমীন।–mohammad mizanoor Rahman

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

সম্মানিত প্রশ্নকারী ভাই, গোনাহর চাইতে আমাদের বড় ভুল হল, তাওবা না করা। আপনি সে ভুল থেকে বের হয়ে পরিশুদ্ধ জীবন যাপনের চিন্তা করছেন–আল্লাহ আপনাকে কবুল করুন। আমীন।

আর আত্মশুদ্ধির এই মুবারক সফর শুরু করতে হলে আপনার প্রতি আমার পরামর্শ হল-

প্রথমত: নিজের গোনাহর ব্যাপারে অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করুন। কেননা আত্মশুদ্ধির প্রথম ধাপই হল, তাওবা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَّصُوحًا عَسَى رَبُّكُمْ أَن يُكَفِّرَ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ

‘মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ তা’আলার কাছে তওবা কর-আন্তরিক তওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত।’ (সূরা আত-তাহরীম ০৮)

এজন্য ইমাম গাজালী রহ. মিনহাজুল আবেদীনে’ লিখেছেন, ‘অতপর হে! ইবাদতকারী তোমার উপর কর্তব্য হল তুমি আল্লাহর নিকট তাওবা কর । তাওবার কারণে আল্লাহ তোমাকে তার আনুগত্য করা সহজ করে দিবেন এবং তোমার নেক কাজ করার তাওফীক ও সৌভাগ্য লাভ হবে।’

দ্বিতীয়ত: আসলে আত্মশুদ্ধির এই পবিত্র সফরের মোড়ে মোড়ে প্রয়োজন হয় একজন পূর্ণাঙ্গ (কামেল) শায়েখের সাহচর্য বা নির্দেশনা। কারণ আত্মিক ব্যাধিগুলো চিহ্নিত করা যার তার পক্ষে সম্ভব নয়। কেননা এগুলো সাধারণত অতিসূক্ষ্ম ও অস্পষ্ট হয়ে থাকে। অনেক সময় ব্যাধি বাহ্যতঃ ভালো গুণ বলে প্রতিভাত হয়। অথচ উভয়ের মাঝে তারতম্য করা কঠিন। যেমন অহংকার ও দাম্ভিকতা হারাম। এটা সব ধরনের আত্মিক ব্যাধির মূল উৎস, যা থেকে মুক্তি লাভ খুবই জরুরি। অন্যদিকে আত্মমর্যাদাবোধ একটা মহৎ গুণ। এ গুণ অর্জন করা অপরিহার্য। এই বৈশিষ্ট্য দুটি বাহ্যত একই রকম মনে হলেও বাস্তবে উভয়ের মধ্যে বিরাট তফাৎ রয়েছে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে এ দু’য়ের মাঝে তারতম্য করার শক্তি সবার নেই। এ ক্ষেত্রে কোনো কামেল বুজুর্গের সান্নিধ্য কিংবা নির্দেশনাই সঠিক সমাধান।

সুতরাং আপনার প্রতি আমার জোরালো পরামর্শ হল, জীবনের জন্য এবং হৃদয় ও আত্মার জন্য একজন রাহবার এবং পথপ্রদর্শক গ্রহণ করুন। মনে রাখবেন, মোম থেকে মোম আলো গ্রহণ করে এবং প্রদীপ থেকে প্রদীপ প্রজ্বলিত হয় এটাই হলো চিরন্তন সত্য। এ জন্য একান্ত কর্তব্য হলো, আল্লাহর জমিনে যে কোনো স্থানে আল্লাহর কোনো মুখলিস বান্দাকে আপনি খুঁজে পেলে সেই নেক বান্দাকে আপনার পথপ্রদর্শকরূপে গ্রহণ করুন। তার নির্দেশিত পথে জীবন গঠন শুরু করুন। অবশ্য পথপ্রদর্শক নির্বাচনের পূর্ণ স্বাধীনতা আপনার রয়েছে।

সম্মানিত দীনি ভাই, যেহেতু প্রবৃত্তির ইসলাহ বা আত্মশুদ্ধির জন্য একজন শায়খ বা মুরব্বির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য, তাই ইসলামি-শরিয়তে নেককার ও ওলামায়ে কেরামের সংসর্গ অবলম্বনের প্রতি জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে অসৎ সঙ্গ বর্জনের জন্যও কঠোরভাবে নির্দেশ করা হয়েছে। যেমন  পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ

‘যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে।’ (সূরা লোকমান ১৫)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللّهَ وَكُونُواْ مَعَ الصَّادِقِينَ

‘হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।’ (সূরা আত তাওবাহ ১১৯)

আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমীন।

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
শায়েখ উমায়ের কোব্বাদী
আরো পড়ুনঃ নফস কত প্রকার?

ন্তব্য

  1. Hazrat, islahe nafser jonno ki gunaboli shomponno shaikh baa murobbir sathe islahi shomporko korte hobe? amader dhaka te erokom koyekjon hazrat er naam bolle upokrito hotam. Zajhakallahu khairan .

  2. Hazrat , attomorjadabodh o ohongkarer moddhe je parthokko achhe seta ami etodin kheyal i korini. e karone amar somossa hoto. apnake Allah uttom protidan din, e bishoye mulloban alokpat korar jonno, dua korben.

মন্তব্য বন্ধ