নাবালেগ শিশু-কিশোরের সম্পদে কি যাকাত ফরয হয়?

জিজ্ঞাসা–২৩৫: আসসালামু আলাইকুম। মুহতারাম! নাবালেগ এতীম হোক বা না হোক, তার ব্যাপারে যাকাতের হুকুম কী? বিস্তারিত জানানোর জন্য বিনীত আবেদন করছি। মহান আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন। আমিন।--মাহদী হাসানাত খান: [email protected]

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
সাহাবী আলী রাযি. আব্দুল্লাহ ইবন মাসঊদ রাযি. আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযি. এর এক ফতওয়া মতে নাবালেগ শিশু-কিশোরের ওপর যাকাত ফরয নয়। (সহিহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ উমদাতুল কারী ৮/২৩৭)
অনুরূপ মত ব্যক্ত করেছেন তাবিঈ কাযী শুরাইহ রহ. ইমাম শাবী রহ. সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব রহ. আবু ওয়াইল রহ. সাঈদ ইবন জুবাইর রহ. জাফর সাদিক রহ. যায়েদ ইবন আলী রহ. আব্দুল্লাহ ইবন মুবারক রহ. ফকীহ আবুল আব্বাস রহ.। এবং তাবিঈ হাসান বসরী রহ. তাউস রহ. ইমাম সুফয়ান সাওরী রহ. ইবন শুবরামা রহ. ইবরাহীম নাখয়ী রহ. এরও অন্যতম মতও এটি। (প্রাগুক্ত ৮/২৩৭ আলমুগনী ৪/৭০ আলউম্ম ২/২৯ বিদায়াতুল মুজতাহিদ ২/৫৫ আলবাহরুযযখার ২/১৪২)
অর্থাৎ, উল্লেখিত সাহাবা ও তাবিঈ কিংবা তাবেতাবঈগণ বলেন, নাবালেগ শিশু-কিশোরের ওপর যাকাত ফরয নয়। আর এই মতটিই গ্রহণ করেছেন ইমাম আবু হানিফা রহ.। (আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৯৭ আলইনায়াহ ২/১১৫)
এই মতের প্রবক্তাদের দলিল–

১. আল্লাহ তাআলা বলেন,خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا তাদের মালামাল থেকে যাকাত গ্রহণ কর যাতে তুমি সেগুলোকে পবিত্র করতে এবং সেগুলোকে বরকতময় করতে পার এর মাধ্যমে। (সূরা তাওবা ১০৩)

লা বাহুল্য, এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, যাকাত গ্রহণ করার অন্যতম উদ্দেশ্য হল, সম্পদের মালিককে গুনাহ থেকে পবিত্র করা।  أن الصغير ليس من أهل التطهير؛ إذ لا ذنب عليه  আর নাবালেগের তো গোনাহই নেই, সুতরাং তার থেকে যাকাত গ্রহণ করে তাকে পবিত্র করারও সুযোগ নেই। অর্থাৎ, গুনাহ না থাকার কারণে নাবালেগ যেহেতু পবিত্রকরণের পাত্র নয়, সুতরাং সে যাকাত দেয়ারও যোগ্য নয়। (আলমাজমূ’ ৫/৩৩০ আলইলমাম ১২৩)

২. রাসূলুল্লাহ বলেছেন,

رفع القلم عن ثلاثة: عن الصغير حتى يبلغ، وعن النائم حتى يستيقظ، وعن المجنون حتى يفيق

তিন ব্যক্তির উপর থেকে (দায়িত্বের) কলম উঠিয়ে নেয়া  হয়েছে, (১) ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হওয়া পর্যন্ত (২) শিশু বালেগ হওয়া পর্যন্ত এবং (৩) পাগল বিবেকবুদ্ধি ফিরে পাওয়া পর্যন্ত। (আবু দাউদ ৪৪০৩ তিরমিযী ১৪২৩ নাসাঈ ৩৪৩২ ইবনে মাজাহ ২০৪১)

যাকাত শরীয়তের অন্যতম বিধান। আর এ হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয়, শিশু বালেগ হওয়ার আগ পর্যন্ত তার ওপর শরীয়তের কোনো বিধান চাপানো যাবে না।

৩. আলী রাযি. বলেছেন, لا زكاة في مال الضِّمار ভোগ করা যায় না এমন সম্পদের যাকাত নেই। (নাসবুররায়া ২/৩৩৪) আর নাবালেগের সম্পদও এই শ্রেণীভুক্ত। শরীয়তের বিচারে বিবেক-বুদ্ধি অপিরক্ক হওয়ার কারণে সে তার সম্পদ স্বাধীনভাবে ভোগ করতে পারে না (দ্রঃ তাফসীর সূরা নিসা ৫) সুতরাং তার সম্পদে যাকাত নেই।

৪. আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযি. বলেছেন, لا تجب في مال اليتيم زكاة حتى تجب عليه الصلاة ইয়াতিমের ওপর নামাজ ফরয হওয়ার আগ পর্যন্ত যাকাত ফরয নয়। (আলআমওয়াল ৩/৯৯)

৫. আব্দুল্লাহ ইবন মাসঊদ রাযি. বলেছেন, ليس في مال اليتيم زكاة ইয়াতিমের সম্পদে (সে বালেগ হওয়ার আগে) যাকাত নেই।  (নাসবুররায়া ২/৩৩৪ ফাতহুলকাদীর ২/১১৫)

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী

আরো পড়ুন: যাকাতের নিসাবের মানদণ্ড কি-স্বর্ণ না রূপার মূল্য?

আরো পড়ুন: যাকাত কিভাবে আদায় করবেন?

আরো পড়ুন: অল্প অল্প স্বর্ণ রূপার জাকাত

আরো পড়ুন:ভুলবশতঃ নেসাবের মালিককে যাকাত দিয়ে দিলে আদায় হবে কি?

আরো পড়ুন: গয়না আছে টাকা নেই, যাকাত কিভাবে দিব?

আরো পড়ুন: বছরের মাঝখানে উপার্জিত সম্পদের যাকাতের হিসাব কিভাবে হবে?

আরো পড়ুন: নগদ টাকা না থাকলে যাকাত কিভাবে দিবে?

আরো পড়ুন: সমিতির টাকার জাকাত আছে কি?

আরো পড়ুন: স্বর্ণ সাড়ে সাত ভরির কম হলে যাকাত ফরয হবে কিনা?

আরো পড়ুন: প্রভিডেন্ট ফান্ডের জাকাত দিতে হবে কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten − 8 =