স্ত্রীর পায়ুপথে সহবাসকারী তাওবা করবে কিভাবে?

জিজ্ঞাসা–১৫৭১: আমি আমার স্ত্রীর সাথে বায়ু পথে মেলামেশা করেছি আল্লাহর কাছে মাফ চাইবো কিভাবে?–ইচ্ছাকৃতভাবে নাম প্রকাশ করা হয় নি।

জবাব:

এক. স্ত্রীর পায়ুপথে সহবাস জঘন্যতর কবিরা গুনাহ। আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,

مَلْعُونٌ مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَ

যে ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে নিতম্বে সহবাস করে সে লা’নত প্রাপ্ত। (আবু দাউদ ২১৬২)

বিস্তারিত দেখুন, জিজ্ঞাসা নং–৬৮৫।

সুতরাং আপনার জন্য একমাত্র অপরিহার্য কর্তব্য হল, আল্লাহর কাছে তাওবা করুন।

দুই. আলেমগণ বলেছেন, তাওবার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে ১। গুনাহ ত্যাগ করা। ২। কৃত কর্মের জন্য অনুতপ্ত হওয়া। ৩। সে গুনাহতে পুনরায় লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া। যদি এ তিনটি শর্তের কোন একটি না পাওয়া যায় তাহলে সে তাওবা শুদ্ধ হবে না।

পক্ষান্তরে গোনাহের কাজটি যদি বান্দার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তাহলে তবে সে ক্ষেত্রে উপরোল্লিখিত তিনটি শর্তের সঙ্গে আরো একটি শর্ত যুক্ত হবে। আর তাহল, হক্বদারের হক্ব থেকে নিজেকে মুক্ত করা।

তিন. প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, অতএব, যদি উক্ত নোংরা কাজে আপনার স্ত্রীর সম্মতি থাকে তাহলে দু’জনের জন্যই তাওবা ওয়াজিব। আর যদি তার সম্মতি না থাকে; বরং যদি আপনি জোরপূর্বক তার সঙ্গে কাজটি করে থাকেন তাহলে উপরোল্লিখিত তিনটি শর্ত পূরণ করে তাওবা করবেন এবং পাশাপাশি স্ত্রীর কাছেও মাফ চেয়ে নিবেন।

বিস্তারিত দেখুন, জিজ্ঞাসা নং–১১২৩।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِن قَرِيبٍ فَأُولَٰئِكَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا.  وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّىٰ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارٌ ۚ أُولَٰئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا

নিশ্চয় তাওবা কবূল করা আল্লাহর জিম্মায় তাদের জন্য, যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে। তারপর শীঘ্রই তাওবা করে। অতঃপর আল্লাহ এদের তাওবা কবুল করবেন আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। আর তাওবা নেই তাদের, যারা অন্যায় কাজসমূহ করতে থাকে, অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু এসে যায়, তখন বলে, আমি এখন তাওবা করলাম; আর তাওবা তাদের জন্য নয়, যারা কাফের অবস্থায় মারা যায়; আমি এদের জন্যই তৈরি করেছি যন্ত্রণাদায়ক আজাব। (সুরা নিসা ১৭-১৮)

والله أعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

thirteen + 18 =